বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

নামাযের মাকছাদ

নামাযের একমাত্র মাকসাদ হলো- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার রেজামন্দি হাসিল করা । আল্লাহ তা’য়ালা নামায এ জন্যে দান করেছেন যে, 
নামায বান্দাকে যাবতীয়-
  • গুনাহের কাজ
  • অশ্লীল কাজ
  • নির্লজ্য ও বেহায়াপনা থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং বান্দার যা কিছু দরকার তা নামায পড়ে আল্লাহর অসীম খাজানা থেকে নিয়ে যাবে।
নবী করীম (স.) ও ছাহাবায়ে কেরামগণের যখনই কোন অসুবিধা দেখা দিত বা কোন প্রয়োজন দেখা দিত তখনই তাঁরা নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন, নামায দ্বারা তাঁদের হাজত পূর্ণ হতো ।
নামায দ্বারা তারা-
  • অসুখ-বিসুখ থেকে পরিত্রাণ পেতেন ।
  • বৃষ্টি নামিয়ে ফেলতেন । হযরত আনাস (রা.) ।
  • মৃত গাধা জীবিত করতেন । নাবাতা ইবনে ইয়যীদ নাখয়ী নামক এক তাবেঈ ।
  • ঘোড়ায় চড়ে সমূদ্র পাড়ি দিয়েছেন । হযরত আলী ইবনে হুজর (রহ.) বাহরাইন আক্রমনের সময় এবং
  • হযরত আবু মুসলিম খাওয়ানি (রহ.) ৩০০০ সৈন্য নিয়ে সিরিয়ার পাহাড়ী খরস্রোতা নদী পার হয়েছিলেন।- আখেরাতই জীবন, পৃঃ ৩৭৩-৩৭৬
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা ঈমানদার মুসলমানদের অনেক বড় হাতিয়ার হিসাবে নামাযকে দান করেছেন । যা দুনিয়ার আর কারো কাছে নেই । যেমন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প যা দূর করতে এ্যাটম রকেট ব্যর্থ, কেবল দু’রাকাত নামাযই তা দূর করতে পারে । একমাত্র দু’রাকাত নামাযই পারে বৃষ্টি নামাতে ও অতি বৃষ্টি ঠেকাতে ।
এমন কঠিন ও জটিল রোগ যা দুনিয়ার সব ডাক্তার কবিরাজ ব্যর্থ হয়েছে, একমাত্র নামাযই পারে তা সারিয়ে দিতে । যেমন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল বোখারী (রহ.) বাল্যকালেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে পড়েন । তৎকালীন সকল ডাক্তার কবিরাজ বাল ইমামের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে অক্ষম । অবশেষে ইমাম সাহেবের মায়ের নামায ও দু’আর বরকতে আল্লাহ তা’আলা বালক ইমামকে এমন দৃষ্টিশক্তি দান করেছিলেন যে, শেষ বয়স পর্যন্ত রাতের বেলায় চন্দ্রালোকেও তিনি লিখতে ও পড়তে পারতেন । এরূপ ঘটনা একটা দুটা নয়, শত সহস্র রয়েছে এবং বর্তমান জামানায়ও মানুষ এরকম ফলই পাচ্ছে ।
নামায দ্বারা ফায়দা নিতে হলে আমাদেরকেও খুশু ও খুজুর সহিত রাসুলুল্রাহ (স.) ও সাহাবা আজমাইনদের মত নামায আদায় করতে হবে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন