সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

গ্যাস সংকট এবং আমাদের করনীয়

গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ । রান্না থেকে শুরু করে প্রতিটি জালানির প্রয়োজন মিটায় গ্যাস । গ্রামের মানুষ কাঠ-লাকড়ী দিয়ে জালানীর প্রয়োজন মিটালেও শহরের মানুষ জ্বালানী হিসাবে গ্যাস সারা ভাবতেই পারে না । আর আমাদের দেশে এই গ্যাসের চাহিদা মেটায় দেশের বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলন করা গ্যাস । কিন্তু সেই গ্যাস এখন সুন্দর বনের বাঘের মতো আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । গত ২২ জানুয়ারী ২০১৬ সময় টিভির খবরে দেখা গেল চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে । অনেক বাড়ীতে রান্না-বান্না প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে । অনেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে এনে রান্নার কাজ করছেন ।
কেন এই গ্যাস সংকট ?
সবার প্রশ্ন গ্যাস সংকট কেন হয় ? মূলত রান্নার কাজে যারা গ্যাস ব্যবহার করেন, এই গ্যাস সংকটের জন্য মূলত তারাই দায়ী । অনেকের বাড়ীতে দেখা যায় রান্না শেষ হয়ে যাওয়ার পরও একটা ম্যাচ বাক্সের কাঠি বাঁচিয়ে রাখার জন্য চুলাটা জালিয়েই রাখেন । অথচ এতে করে প্রাকৃতিক গ্যাসের যে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে সেদিকে যেন কারও খেয়াল নেই । যত গ্যাসই ব্যবহার করুক বিল তো একই দিতে হবে । তাই যার যেভাবে ইচ্ছা গ্যাস ব্যবহার করছে । উনাদেরকে এ ব্যাপারে বললেও ওনারা এটাকে গুরুত্বের সঙ্গেই নেন না । এভাবে চলতে থাকলে এখন দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট হয়েছে । ভবিষ্যতে ঢাকা সহ সমস্ত বাংলাদেশের সবকটা শহরেই গ্যাসের সংকট দেখা দিবে । হয়তো দেখা যাবে এক সময় গ্যাস পাওয়াই যাবে না । হয়তো CNG গুলোও গ্যাসের অভাবে পরে থাকবে । তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না । হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা গ্যাস নামক একটি বস্তুর নাম শুনতে পাবে জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে । তাই এখনই আমাদেরকে এ বিষয়ে আমাদের করনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
আমাদের করনীয় ব্যবস্থা কি ?
কিছুদিনে আগে একটি গ্রামে গিয়ে দেখতে পেলাম সেখানে একটি গরুর খামার । খামারের সমস্ত বর্জ্য পদার্থ একটি খোলা জায়গায় নিয়ে ফেলছে । সেখান থেকে বের হচ্ছে তীব্র গন্ধ । পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে । আবার আমরা যখন রাস্তাচলা করি তখন দেখতে পারি রাস্তার আশে পাশের বাড়ীর মানুষজন তাদের বাড়ীর আবর্জনা রাস্তার পাশে ছুড়ে ফেলছেন । আর সেগুলো পঁচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়ে পরিবেশ তো নষ্ট হচ্ছেই । সাথে সাথে আশেপাশের মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে । কিন্তু এদিকে প্রশাসনের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । অথচ প্রশাষন যদি এদিকে একটু ভ্রুক্ষেপ করতো তাহলে আমাদের জ্বালানী সমস্যা যেমন মিটে যেত, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকতো আর আমাদের অসুখ-বিসুখও কম হতো । 
সরকার বা প্রশাসনের যা করনীয়
খনিজ গ্যাস অপচয় রোধে সরকার বা প্রশাসন নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন ঃ-
  1. বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শহরে যারা রান্নার কাজে লাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন তাদের গ্যাসের লাইন কেটে দিতে হবে । তাদের সবাইকে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হবে । এতে করে তারা গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যায়ি হবে  এবং এতে করে গ্যাস বিলুপ্ত না হয়ে গ্যাসের অপচয় বিলুপ্ত হবে ।
  2. প্রত্যেকটা বিভাগে, প্রত্যেকটা জেলায়, প্রত্যেকটা উপজেলায়, প্রত্যেকটা পৌরসভায়, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এবং প্রত্যেকটা গ্রামে যে পরিমান পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে, সেই পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে সেই স্থানে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মান করে সেই প্লান্টে সমস্ত পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা দিয়ে এবং হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলের মল একত্র করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে সেই গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে সেই গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারেন । 
  3. এতে করে গ্যাসের অভাব যেমন বিলুপ্ত হবে, তেমনি বারতি পাওনা হিসাবে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং মানুষের অসুখ-বিসুখও হবে না ।
  4. একই ভাবে বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য থেকেও গ্যাস উৎপাদন করা যেতে পারে । এতে করে নদীর পানি দূষনের হাত থেকে বাঁচবে ।
  5. খনিজ থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে রান্নার কাজ না চালিয়ে শুধু মাত্র কলকারখানায় কাজে এবং গাড়ীর জ্বালানীর কাজে লাগালে আমাদের দেশে আর কোনদিন গ্যাসের অভাব হবে না । আশা করি আমাদের দেশের সরকার এবং প্রসাশন এই কথাগুলো একবার ভেবে দেখবেন ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন