ঈমানের পরেই নামাযের স্থান । ইসলামের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল নামায । নামায হল সমস্ত ইবাদতের মূল । যার নামায নেই তার দ্বীন নেই । যে ব্যাক্তি ৫ ওয়াক্ত নামায ছেড়ে দিল সে যেন মনুষ্যত্বের দরজা হতে নেমে গেল । বেনামাযী ব্যাক্তি তো নিকৃষ্টতম ফাসিক । আর তাদের খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করতে রাসুলুল্লাহ (স.) নিষেধ করেছেন ।- মেশকাত
তিনি আরও বলেন- “যে ব্যাক্তি নামাযের হেফাযত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে । আর যে হিফাযত করবে না তার জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির কারণ হবে না । কিয়ামতের দিন তার হাশর হবে কারুণ, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফদের মত কাফেরদের সাথে ।”
নামায সর্বকালীন ইবাদত
আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর প্রতি নামায ফরয হয়েছে মিরাজের রাত্রে, আরশে আযীমে । যদিও অন্যান্য ইবাদত ফরয হয়েছে জমিনে । - বুখারী : হা/৩৪২, মুসলিম : হা/৩০৮
কারো পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে পাক কাপড় সংগ্রহ করা মোটেই সম্ভব নয়, তাহলে পরিধানে যে কাপড় আছে সে কাপড়েই নামায আদায় করতে পারবে । ‘কাপড় ঠিক নেই’ ঠুনকো এ অজুহাতে নামায বাদ দেয়া যাবে না । আর যার একেবারেই কাপড় নেই, এমনকি উলঙ্গ অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে তাকেও ওই উলঙ্গ অবস্থাতেই বসে এবং ইশারায় নামায আদায় করতে হবে । তবুও নামায মাফ নাই । - তাহযীব ১ম, পৃঃ ১৫০, হেদায়া ১ম খন্ড, নামায অধ্যায়
ইমাম তাহাভী (রহ.) ও তাবরানী আসমা বিনতে উমাইস (রহ.) হতে বর্ণিত - নবী করিম (স.) খায়বারের কাছাকাছি ছাহবা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন । ঐ সময় তার উপর ওহী নাযিল হল । তিনি আলীর জানুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন । এদিকে বেলা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আলী (রা.) এর আছরের নামায পড়া হয়নি । প্রিয় নবীর নিদ্রা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে তিনি নড়াচড়া করলেন না । পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহুর্তে রাসুল (সা.) নিজেই জাগ্রত হয়ে আলীকে নামাজের কথা জিজ্ঞেস করলেন । আলী (রা.) বললেন, এখনও আমার নামায পড়া হয়নি । আলী (রা.) এর কথা শুনে রাসুল (স.) আল্লাহর দরবারে দুয়া করলেন, হে আল্লাহ ! আলী তোমার ও তোমার রাসুলের আনুগত্যে লিপ্ত ছিল, তুমি তাকে নামায পড়ার ব্যবস্থা করে দাও ।
আসমা বলেন, সূর্য থেমে গেল এবং আলী (রা.) আসরের নামায পড়ে নিলেন। সুবহানাল্লাহ । নামাযের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ঘটনা আর কি হতে পারে ?
বড়ই আশ্চর্যের বিষয়, একজন বেনামাযী বেমালুম ভুলে যায় যে তার জিন্দেগী শুরু হয়েছিল আযান আর একামত দিয়ে আর শেষও হবে এ নামায দিয়েই । জানাযা নামাযে আযান ও একামত থাকে না । কারণ ওটা হয়ে যায় তার জন্মের সাথে সাথেই । মুসলমান মাত্রই জন্মের সময় তার ডান কানে আযান আর বাম কানে একামত দেয়া হয়, এটা মুস্তাহাব । বাকী থাকে ঐ একামতের নামায । যেটা জানাযা দ্বারা পূর্ণ করা হয় আর চির বিদায় হয় দুনিয়া থেকে । এটা জানার পরও মানুষ নামায পড়ে না । কি ভয়ঙ্কর কথা ! একটু চিন্তা করুন । কিন্তু আমাদের অনেকের কাছে এক ওয়াক্ত নামাযের মূল্য ৫ টাকা ১০ টাকার চেয়েও কম । কারণ, আযান কানে আসে কিন্তু রিকসা/গাড়িটি থামিয়ে নামায আদায় করি না । গন্তব্যে যেতে যেতে নামায কাযা হয়ে যায় । হয় আফসোস ! আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন, কিন্তু আমাকে আপনাকে মাফ করবেন কি না ?- তাতো জানা নেই ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন