সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

গ্যাস সংকট এবং আমাদের করনীয়

গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ । রান্না থেকে শুরু করে প্রতিটি জালানির প্রয়োজন মিটায় গ্যাস । গ্রামের মানুষ কাঠ-লাকড়ী দিয়ে জালানীর প্রয়োজন মিটালেও শহরের মানুষ জ্বালানী হিসাবে গ্যাস সারা ভাবতেই পারে না । আর আমাদের দেশে এই গ্যাসের চাহিদা মেটায় দেশের বিভিন্ন খনি থেকে উত্তোলন করা গ্যাস । কিন্তু সেই গ্যাস এখন সুন্দর বনের বাঘের মতো আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । গত ২২ জানুয়ারী ২০১৬ সময় টিভির খবরে দেখা গেল চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে । অনেক বাড়ীতে রান্না-বান্না প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে । অনেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে এনে রান্নার কাজ করছেন ।
কেন এই গ্যাস সংকট ?
সবার প্রশ্ন গ্যাস সংকট কেন হয় ? মূলত রান্নার কাজে যারা গ্যাস ব্যবহার করেন, এই গ্যাস সংকটের জন্য মূলত তারাই দায়ী । অনেকের বাড়ীতে দেখা যায় রান্না শেষ হয়ে যাওয়ার পরও একটা ম্যাচ বাক্সের কাঠি বাঁচিয়ে রাখার জন্য চুলাটা জালিয়েই রাখেন । অথচ এতে করে প্রাকৃতিক গ্যাসের যে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে সেদিকে যেন কারও খেয়াল নেই । যত গ্যাসই ব্যবহার করুক বিল তো একই দিতে হবে । তাই যার যেভাবে ইচ্ছা গ্যাস ব্যবহার করছে । উনাদেরকে এ ব্যাপারে বললেও ওনারা এটাকে গুরুত্বের সঙ্গেই নেন না । এভাবে চলতে থাকলে এখন দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট হয়েছে । ভবিষ্যতে ঢাকা সহ সমস্ত বাংলাদেশের সবকটা শহরেই গ্যাসের সংকট দেখা দিবে । হয়তো দেখা যাবে এক সময় গ্যাস পাওয়াই যাবে না । হয়তো CNG গুলোও গ্যাসের অভাবে পরে থাকবে । তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না । হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা গ্যাস নামক একটি বস্তুর নাম শুনতে পাবে জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে । তাই এখনই আমাদেরকে এ বিষয়ে আমাদের করনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
আমাদের করনীয় ব্যবস্থা কি ?
কিছুদিনে আগে একটি গ্রামে গিয়ে দেখতে পেলাম সেখানে একটি গরুর খামার । খামারের সমস্ত বর্জ্য পদার্থ একটি খোলা জায়গায় নিয়ে ফেলছে । সেখান থেকে বের হচ্ছে তীব্র গন্ধ । পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে । আবার আমরা যখন রাস্তাচলা করি তখন দেখতে পারি রাস্তার আশে পাশের বাড়ীর মানুষজন তাদের বাড়ীর আবর্জনা রাস্তার পাশে ছুড়ে ফেলছেন । আর সেগুলো পঁচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়ে পরিবেশ তো নষ্ট হচ্ছেই । সাথে সাথে আশেপাশের মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে । কিন্তু এদিকে প্রশাসনের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । অথচ প্রশাষন যদি এদিকে একটু ভ্রুক্ষেপ করতো তাহলে আমাদের জ্বালানী সমস্যা যেমন মিটে যেত, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকতো আর আমাদের অসুখ-বিসুখও কম হতো । 
সরকার বা প্রশাসনের যা করনীয়
খনিজ গ্যাস অপচয় রোধে সরকার বা প্রশাসন নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন ঃ-
  1. বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শহরে যারা রান্নার কাজে লাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন তাদের গ্যাসের লাইন কেটে দিতে হবে । তাদের সবাইকে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হবে । এতে করে তারা গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যায়ি হবে  এবং এতে করে গ্যাস বিলুপ্ত না হয়ে গ্যাসের অপচয় বিলুপ্ত হবে ।
  2. প্রত্যেকটা বিভাগে, প্রত্যেকটা জেলায়, প্রত্যেকটা উপজেলায়, প্রত্যেকটা পৌরসভায়, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এবং প্রত্যেকটা গ্রামে যে পরিমান পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে, সেই পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে সেই স্থানে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মান করে সেই প্লান্টে সমস্ত পঁচনশীল ময়লা আবর্জনা দিয়ে এবং হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলের মল একত্র করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে সেই গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে সেই গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারেন । 
  3. এতে করে গ্যাসের অভাব যেমন বিলুপ্ত হবে, তেমনি বারতি পাওনা হিসাবে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং মানুষের অসুখ-বিসুখও হবে না ।
  4. একই ভাবে বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য থেকেও গ্যাস উৎপাদন করা যেতে পারে । এতে করে নদীর পানি দূষনের হাত থেকে বাঁচবে ।
  5. খনিজ থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে রান্নার কাজ না চালিয়ে শুধু মাত্র কলকারখানায় কাজে এবং গাড়ীর জ্বালানীর কাজে লাগালে আমাদের দেশে আর কোনদিন গ্যাসের অভাব হবে না । আশা করি আমাদের দেশের সরকার এবং প্রসাশন এই কথাগুলো একবার ভেবে দেখবেন ।

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

নামাযের মাকছাদ

নামাযের একমাত্র মাকসাদ হলো- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার রেজামন্দি হাসিল করা । আল্লাহ তা’য়ালা নামায এ জন্যে দান করেছেন যে, 
নামায বান্দাকে যাবতীয়-
  • গুনাহের কাজ
  • অশ্লীল কাজ
  • নির্লজ্য ও বেহায়াপনা থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং বান্দার যা কিছু দরকার তা নামায পড়ে আল্লাহর অসীম খাজানা থেকে নিয়ে যাবে।
নবী করীম (স.) ও ছাহাবায়ে কেরামগণের যখনই কোন অসুবিধা দেখা দিত বা কোন প্রয়োজন দেখা দিত তখনই তাঁরা নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন, নামায দ্বারা তাঁদের হাজত পূর্ণ হতো ।
নামায দ্বারা তারা-
  • অসুখ-বিসুখ থেকে পরিত্রাণ পেতেন ।
  • বৃষ্টি নামিয়ে ফেলতেন । হযরত আনাস (রা.) ।
  • মৃত গাধা জীবিত করতেন । নাবাতা ইবনে ইয়যীদ নাখয়ী নামক এক তাবেঈ ।
  • ঘোড়ায় চড়ে সমূদ্র পাড়ি দিয়েছেন । হযরত আলী ইবনে হুজর (রহ.) বাহরাইন আক্রমনের সময় এবং
  • হযরত আবু মুসলিম খাওয়ানি (রহ.) ৩০০০ সৈন্য নিয়ে সিরিয়ার পাহাড়ী খরস্রোতা নদী পার হয়েছিলেন।- আখেরাতই জীবন, পৃঃ ৩৭৩-৩৭৬
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা ঈমানদার মুসলমানদের অনেক বড় হাতিয়ার হিসাবে নামাযকে দান করেছেন । যা দুনিয়ার আর কারো কাছে নেই । যেমন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প যা দূর করতে এ্যাটম রকেট ব্যর্থ, কেবল দু’রাকাত নামাযই তা দূর করতে পারে । একমাত্র দু’রাকাত নামাযই পারে বৃষ্টি নামাতে ও অতি বৃষ্টি ঠেকাতে ।
এমন কঠিন ও জটিল রোগ যা দুনিয়ার সব ডাক্তার কবিরাজ ব্যর্থ হয়েছে, একমাত্র নামাযই পারে তা সারিয়ে দিতে । যেমন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল বোখারী (রহ.) বাল্যকালেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে পড়েন । তৎকালীন সকল ডাক্তার কবিরাজ বাল ইমামের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে অক্ষম । অবশেষে ইমাম সাহেবের মায়ের নামায ও দু’আর বরকতে আল্লাহ তা’আলা বালক ইমামকে এমন দৃষ্টিশক্তি দান করেছিলেন যে, শেষ বয়স পর্যন্ত রাতের বেলায় চন্দ্রালোকেও তিনি লিখতে ও পড়তে পারতেন । এরূপ ঘটনা একটা দুটা নয়, শত সহস্র রয়েছে এবং বর্তমান জামানায়ও মানুষ এরকম ফলই পাচ্ছে ।
নামায দ্বারা ফায়দা নিতে হলে আমাদেরকেও খুশু ও খুজুর সহিত রাসুলুল্রাহ (স.) ও সাহাবা আজমাইনদের মত নামায আদায় করতে হবে ।

পুলিশের নির্যাতন এবং আমাদের লজ্জা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য গঠন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী । পুলিশ জনগনের জান মাল রক্ষা করবে । এটাই পুলিশের প্রধান কাজ । পুলিশ করেও তাই । আমি নিজেও অনেক বিপদে পরে পুলিশের কাছ থেকে সর্বাত্বক সাহায্য পেয়েছি । পুলিশকে আমি নিজেও অনেক শ্রদ্ধা করি । ধরতে গেলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ । কিন্তু কিছুদিন আগের দুটি ঘটনা দেখে পুরোপুরি আশ্চর্য হয়ে যাই । গত ০৯ জানুয়ারী ২০১৬ শনিবার পুলিশের এক কর্মকর্তা নির্যাতন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে । এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পুলিশ দ্বারা নির্যাতন হয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আরেক কর্মকর্তা । যেইসব পুলিশ এই দুই সরকারী কর্মকর্তার উপরে অমানুষিক নির্যাতন করেছে । আমার সন্দেহ হচ্ছে এরা কি আসলেই পুলিশ ? নাকি পুলিশ রুপি জঙ্গি ? কারণ সাধারণ জনগন নির্যাতন হলে কোন কথা ছিল না । কিন্তু এখানে নির্যাতন হয়েছে খোদ সরকারী দুইজন কর্মকর্তা । অথচ এদের কোন বিচার হচ্ছে না । এভাবে চলতে থাকলে অসাধু পুলিশের সাহস দিন দিন বেড়ে যাবে । ভবিষ্যতে দেখা যাবে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেজিষ্ট্র্যাট সহ বড় বড় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা পুলিশের দ্বারা নির্যাতন হবে । এক সময় দেখা যাবে সাধারণ জনগণ পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে । তখন সাধারণ জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিবে । ভবিষ্যতে দেশের আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছু থাকবে না । দেখা যাবে  কিছুদিন পর এক সময় সৌদি আরবের আইয়েমে জাহিলিয়াত যুগের মতো এ দেশে অন্ধকার নেমে আসবে । তখন আর কারও করার কিছুই থাকবে না । তাই প্রসাশনকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬

বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে আকর্ষন কেন ?

মানুষ বিনোদন ছাড়া চলতে পারে না । তা সে যেই হোক না কেন । মধ্যযুগে মানুষ খেলাধুলা করে কিংবা বিভিন্ন শিল্পী ভাড়া করে এনে গান শুনে বিনোদন উপভোগ করত । কালের আবর্তনে মানুষের ঘরে বিনোদনের খোরাক একধাপ বাড়িয়ে দিতে এল টেলিভিশন । এক সময় বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেল বলতে শুধু মাত্র বিটিভিই ছিল । উনিশ শতকের নব্বই দশকের মাঝামাছি সময় থেকে বাংলাদেশে ব্যাক্তিমালিকানাধিন চ্যানেল আসতে শুরু করে । সর্ব প্রথম এটিএন বাংলা এবং চ্যানেল আই থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ডজনেরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার হচ্ছে । তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো । শুরুতে বাংলাদেশের জনগণ ভারতীয় চ্যানেলের চেয়ে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো খুব মজা করে দেখতো । এক সময় হুমায়ুন আহমেদের নাটক, হানিফ সংকেতের নাটক, সালাউদ্দিন লাভলুর নাটক ছিল বাংলাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে । বাংলাদেশের সিনেমাগুলোও খুব আগ্রহভরে দেখতো মানুষ । কিন্তু বিশ শতকের পর বাংলাদেশের মানুষ আস্তে আস্তে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরছে । একমাত্র খবর ব্যাতিত বাংলাদেশের চ্যানেলের অন্য কোন অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না । এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন “আসলে মানুষ মনে যেটা চায় সেটাই করে, এতে আমাদের এখন কিছুই করার নেই” । আসলে এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভারতীয় চ্যানেলগুলোর মধ্যে সিস্টেমগত পার্থক্য । দেখা গেছে ভারতে খবর, সিনেমা, খেলাধুলা এবং নাটকের জন্য আলাদা আলাদা চ্যানেল আছে । কিন্তু বাংলাদেশে একমাত্র খবর ছাড়া অন্য কোন বিনোদনের জন্য আলাদা চ্যানেল নেই । একটি চ্যানেলেই সবগুলো অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে ।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন বিরতি । ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে ৩ মিনিট সর্বোচ্চ ৪ মিনিট বিজ্ঞাপন বিরতি দেয়া হয় । কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে একবার বিজ্ঞাপন বিরতি শুরু হলে আর যেন শেষ হতেই চায় না । তাছাড়া ভারতীয় চ্যানেলগুলো একটা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আরেকটা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাঝখানে কোন বিজ্ঞাপন বিরতি থাকে না । আর বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট বিজ্ঞাপন দেয় । যা দর্শকদের ধৈর্স হারা করে ফেলে । তাছাড়া বাংলাদেশের কোন সিনেমা যখন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয় তখন অধিকাংশ মজার এবং শিক্ষনীয় অংশগুলো কেটে বাদ দেয়া হয় । কিন্তু ভারতীয় কোন চ্যানেলে যখন সিনেমা সম্প্রচার করা হয় তখন সিনেমার কোন অংশ কাটা হয় না । এই সকল কারণেই বাংলাদেশের বিনোদনপ্রিয় মানুষ সাধারণত ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো দিকে ঝুকে পরেছে । তাই ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করে বাংলাদেশের মানুষকে ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখা থেকে বিরত রাখা যাবে না । এর জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল মালিকদের আন্তরিকতা ।

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৬

নামায

ঈমানের পরেই নামাযের স্থান । ইসলামের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল নামায । নামায হল সমস্ত ইবাদতের মূল । যার নামায নেই তার দ্বীন নেই । যে ব্যাক্তি ৫ ওয়াক্ত নামায ছেড়ে দিল সে যেন মনুষ্যত্বের দরজা হতে নেমে গেল । বেনামাযী ব্যাক্তি তো নিকৃষ্টতম ফাসিক । আর তাদের খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করতে রাসুলুল্লাহ (স.) নিষেধ করেছেন ।- মেশকাত
তিনি আরও বলেন- “যে ব্যাক্তি নামাযের হেফাযত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে । আর যে হিফাযত করবে না তার জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির কারণ হবে না । কিয়ামতের দিন তার হাশর হবে কারুণ, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফদের মত কাফেরদের সাথে ।”

নামায সর্বকালীন ইবাদত

আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর প্রতি নামায ফরয হয়েছে মিরাজের রাত্রে, আরশে আযীমে । যদিও অন্যান্য ইবাদত ফরয হয়েছে জমিনে । - বুখারী : হা/৩৪২, মুসলিম : হা/৩০৮
কারো পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে পাক কাপড় সংগ্রহ করা মোটেই সম্ভব নয়, তাহলে পরিধানে যে কাপড় আছে সে কাপড়েই নামায আদায় করতে পারবে । ‘কাপড় ঠিক নেই’ ঠুনকো এ অজুহাতে নামায বাদ দেয়া যাবে না । আর যার একেবারেই কাপড় নেই, এমনকি উলঙ্গ অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে তাকেও ওই উলঙ্গ অবস্থাতেই বসে এবং ইশারায় নামায আদায় করতে হবে । তবুও নামায মাফ নাই । - তাহযীব ১ম, পৃঃ ১৫০, হেদায়া ১ম খন্ড, নামায অধ্যায়
ইমাম তাহাভী (রহ.) ও তাবরানী আসমা বিনতে উমাইস (রহ.) হতে বর্ণিত - নবী করিম (স.) খায়বারের কাছাকাছি ছাহবা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন । ঐ সময় তার ‍উপর ওহী নাযিল হল । তিনি আলীর জানুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন । এদিকে বেলা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আলী (রা.) এর আছরের নামায পড়া হয়নি । প্রিয় নবীর নিদ্রা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে তিনি নড়াচড়া করলেন না । পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহুর্তে রাসুল (সা.) নিজেই জাগ্রত হয়ে আলীকে নামাজের কথা জিজ্ঞেস করলেন । আলী (রা.) বললেন, এখনও আমার নামায পড়া হয়নি । আলী (রা.) এর কথা শুনে রাসুল (স.) আল্লাহর দরবারে দুয়া করলেন, হে আল্লাহ ! আলী তোমার ও তোমার রাসুলের আনুগত্যে লিপ্ত ছিল, তুমি তাকে নামায পড়ার ব্যবস্থা করে দাও ।
আসমা বলেন, সূর্য থেমে গেল এবং আলী (রা.) আসরের নামায পড়ে নিলেন। সুবহানাল্লাহ । নামাযের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ঘটনা আর কি হতে পারে ?
বড়ই আশ্চর্যের বিষয়, একজন বেনামাযী বেমালুম ভুলে যায় যে তার জিন্দেগী শুরু হয়েছিল আযান আর একামত দিয়ে আর শেষও হবে এ নামায দিয়েই । জানাযা নামাযে আযান ও একামত থাকে না । কারণ ওটা হয়ে যায় তার জন্মের সাথে সাথেই । মুসলমান মাত্রই জন্মের সময় তার ডান কানে আযান আর বাম কানে একামত দেয়া হয়, এটা মুস্তাহাব । বাকী থাকে ঐ একামতের নামায । যেটা জানাযা দ্বারা পূর্ণ করা হয় আর চির বিদায় হয় দুনিয়া থেকে । এটা জানার পরও মানুষ নামায পড়ে না । কি ভয়ঙ্কর কথা ! একটু চিন্তা করুন । কিন্তু আমাদের অনেকের কাছে এক ওয়াক্ত নামাযের মূল্য ৫ টাকা ১০ টাকার চেয়েও কম । কারণ, আযান কানে আসে কিন্তু রিকসা/গাড়িটি থামিয়ে নামায আদায় করি না । গন্তব্যে যেতে যেতে নামায কাযা হয়ে যায় । হয় আফসোস ! আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন, কিন্তু আমাকে আপনাকে মাফ করবেন কি না ?- তাতো জানা নেই ।

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৬

অত্যাধুনিক হাসপাতাল মধুপুরে

মধুপুর লাইফ কেয়ার হাসপাতালের সামনের অংশ

মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা । আর এই সাস্থ্য সেবা থেকে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে । বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে ২-৩ টি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল থাকলেও এখন পর্যন্ত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে উন্নত স্বস্থ্য সেবা প্রদান করার মতো কোন হাসপাতাল নেই । যার কারণে প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রচুর মানুষ বিদেশ পারি জমাচ্ছেন । এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং ডাক্তার মিলে একটি উন্নতমানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন যার নাম লাইফ কেয়ার হাসপাতাল । গত ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৫  শুক্রবার এই হাসপাতালের শুভ উদ্ভোদন করা হয় । লাইফ কেয়ার হাসপাতালের শুভ উদ্ভোদন করেন সাবেক সফল খাদ্য মন্ত্রী এবং বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জননেতা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ভোলা । উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলংকৃত করেন মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ মো. ছরোয়ার আলম খান আবু এবং গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ইউনুস ইসলাম তালুকদার (ঠান্ডু) । মধুপুর হাপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ড ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুর রহিম বলেন “একমাত্র ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন জেলা কিংবা উপজেলায় আমি এরকম অত্যাধুনিক উন্নতমানের হাসপাতাল দেখিনি” লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. নুরুল আলম খান (রাসেল) বলেন “উপজেলা পর্যায়ে এরকম উন্নতমানের একটি হাসপাতাল দেখে হয়তো অনেকে মনে করবেন এখানে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হবে, কিন্তু আমরা সাধারণ দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে মানুষের সাধ্যে মাঝে উন্নত চিকিৎসা দেব” । বর্তমানে হাসপাতালটি দুই তলা ভবন করা হয়েছে । হাসপাতালের চেয়ারম্যান শ্রী মধু সধন সাহা বলেন “ভবিষ্যতে হাসপাতালটি ৯ তলা ভবনে উন্নিত করা হবে এবং এই হাসপাতালটিকে একটি মেডিক্যাল কলেজে রুপান্তর করা হবে” । হাসপাতালের প্রথম তলায় আছে হাসপাতালের নিজস্ব ফর্মেসী, আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব এবং ডাক্তারদের চেম্বার । দ্বিতীয় তলায় আছে হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের অফিস রুম মহিলা ‍ও পুরুষ ওয়ার্ড, দুটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং জরুরী বিভাগ । এছাড়াও আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা্ও আছে । লাইফ কেয়ার হাসপাতালে রয়েছে 4D Colour Doppler আল্ট্রা-সনোগ্রাম মেশিন, Auto Blood Cell Counter মেশিন, Hormone পরীক্ষার মেশিন, অত্যাধুনিক আমেরিকার তৈরি বায়োকেমিষ্ট্রি মেশিন, ইলেক্ট্রোলাইট মেশিন, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, ১২ চ্যানেল ই.সি.জি মেশিন, অত্যাধুনিক দুটি অপারেমন থিয়েটার, ভি আই পি এসি/নন এসি কেবিন । প্রতি রুমে পিভিএক্স টেলিফোন সুবিধা ।