মানুষ বিনোদন ছাড়া চলতে পারে না । তা সে যেই হোক না কেন । মধ্যযুগে মানুষ খেলাধুলা করে কিংবা বিভিন্ন শিল্পী ভাড়া করে এনে গান শুনে বিনোদন উপভোগ করত । কালের আবর্তনে মানুষের ঘরে বিনোদনের খোরাক একধাপ বাড়িয়ে দিতে এল টেলিভিশন । এক সময় বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেল বলতে শুধু মাত্র বিটিভিই ছিল । উনিশ শতকের নব্বই দশকের মাঝামাছি সময় থেকে বাংলাদেশে ব্যাক্তিমালিকানাধিন চ্যানেল আসতে শুরু করে । সর্ব প্রথম এটিএন বাংলা এবং চ্যানেল আই থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ডজনেরও বেশি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার হচ্ছে । তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো । শুরুতে বাংলাদেশের জনগণ ভারতীয় চ্যানেলের চেয়ে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো খুব মজা করে দেখতো । এক সময় হুমায়ুন আহমেদের নাটক, হানিফ সংকেতের নাটক, সালাউদ্দিন লাভলুর নাটক ছিল বাংলাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে । বাংলাদেশের সিনেমাগুলোও খুব আগ্রহভরে দেখতো মানুষ । কিন্তু বিশ শতকের পর বাংলাদেশের মানুষ আস্তে আস্তে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরছে । একমাত্র খবর ব্যাতিত বাংলাদেশের চ্যানেলের অন্য কোন অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না । এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন “আসলে মানুষ মনে যেটা চায় সেটাই করে, এতে আমাদের এখন কিছুই করার নেই” । আসলে এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভারতীয় চ্যানেলগুলোর মধ্যে সিস্টেমগত পার্থক্য । দেখা গেছে ভারতে খবর, সিনেমা, খেলাধুলা এবং নাটকের জন্য আলাদা আলাদা চ্যানেল আছে । কিন্তু বাংলাদেশে একমাত্র খবর ছাড়া অন্য কোন বিনোদনের জন্য আলাদা চ্যানেল নেই । একটি চ্যানেলেই সবগুলো অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে ।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন বিরতি । ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে ৩ মিনিট সর্বোচ্চ ৪ মিনিট বিজ্ঞাপন বিরতি দেয়া হয় । কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে একবার বিজ্ঞাপন বিরতি শুরু হলে আর যেন শেষ হতেই চায় না । তাছাড়া ভারতীয় চ্যানেলগুলো একটা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আরেকটা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাঝখানে কোন বিজ্ঞাপন বিরতি থাকে না । আর বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট বিজ্ঞাপন দেয় । যা দর্শকদের ধৈর্স হারা করে ফেলে । তাছাড়া বাংলাদেশের কোন সিনেমা যখন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয় তখন অধিকাংশ মজার এবং শিক্ষনীয় অংশগুলো কেটে বাদ দেয়া হয় । কিন্তু ভারতীয় কোন চ্যানেলে যখন সিনেমা সম্প্রচার করা হয় তখন সিনেমার কোন অংশ কাটা হয় না । এই সকল কারণেই বাংলাদেশের বিনোদনপ্রিয় মানুষ সাধারণত ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো দিকে ঝুকে পরেছে । তাই ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করে বাংলাদেশের মানুষকে ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখা থেকে বিরত রাখা যাবে না । এর জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল মালিকদের আন্তরিকতা ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন