বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কাঁচা মরিচের ঝাল বেড়ে গেছে

সারা বাংলাদেশে কাঁচা মরিচের ঝাল অত্যন্ত বেড়ে গেছে যা মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে । ঢাকা শহরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা করে এবং ঢাকার বাইরে জেলা শহরগুলোতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে । শুধু তাই নয় প্রতিটি উপজেলায় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে । কাঁচা মরিচের এউ উচ্চমূল্যের কারনে অনেকেই বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন । কেউ কেউ বলছেন বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছেন না বলেই আজ এই অবস্থা । এই অবস্থা চলতে থাকলে দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্য মানুষকে একদিন হয়তো না খেয়ে থাকতে হবে । বর্তমানে অনেক দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্য লোক কাঁচা মরিচ কিনতে না পেরে শুকনা মরিচ দিয়ে সব ধরনের রান্না করছেন বলে জানা যায় । সাধারণ ক্রেতাগণ বলছেন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বিক্রেতাগণ ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন । আবার এদিকে বিক্রেতাগণ বলছেন মরিচের আমদানি না থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাদের উচ্চ মূল্যে মরিচ ক্রয় করতে হচ্ছে । এদিকে বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য এত বেশি বেড়ে গেলেও প্রশাসনের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই । বাজারেও প্রশাসনের কোন ধরনের মনিটরিং হচ্ছে না । এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয় নি ।

চলে গেলেন ডা. এডরিক বেকার

সদা হাস্যজ্জল মানুষ ছিলেন ডা. এডরিক বেকার
মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি
মানুষ পেতে পারে না
ও বন্ধু
মানুষ মানুষের জন্য 
হ্যা, মানুষ মানুষের জন্য । এই মানুষের সেবার জন্য যারা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তাদের একজন ডা. এডরিক বেকার । তিনি একজন ডাক্তার । কিন্তু তিনি তাঁর ডাক্তারী বিদ্যাকে পেশা হিসাবে নেননি । তাঁর ডাক্তারি বিদ্যাকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন হত দরিদ্র মানুষের সেবার জন্য । এজন্য তিনি বেছে নেন বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশকে । যে দেশের মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে । ১৯৭২ সালে তিনি সুইজাল্যান্ড থেকে সে দেশের বিলাসী জীবন ফেলে রেখে মানব সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসেন । এবং তিনি মানব সেবার জন্য বেছে নেন টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা কাইলাকুড়ি নামের ছোট্ট একটি গ্রাম । সেখানেই তিনি গড়ে তুলেন মাটির হাসপাতাল ।  সেখানেই তিনি হতদরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করেন । তাঁর হাসপাতলে ধনী, গরিব, মধ্যবিত্ব সব ধরনের রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা রেখেছিলেন । ধনী এবং মধ্যবিত্ব মানুষের কাছ থেকে তিনি নামে মাত্র চিকিৎসার ফি নিতেন । এবং গরীব লোকেদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতেন । ওনার হাসপাতালে কোন মেডিক্যাল পাস করা ডাক্তার ছিল না । তিনি গ্রামের বেকার যুবক ছেলে-মেয়েদের নিজে ডাক্তারি প্রশিক্ষন দিয়ে তাঁর হাসপাতালে কাজে লাগাতেন । গ্রামের সবাই তাকে ডাক্তার ভাই বলে ডাকত । তিনি বাংলাদেশে আসার পর একবারের জন্যও তাঁর নিজ দেশ সুইজারল্যান্ড যাননি । বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে । দেশের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর শনিবারে ক্রোড়পত্র ছুটির দিনেও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে । দীর্ঘ ৪৩ বছর বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কাইলাকুড়ি গ্রামে দরিদ্র মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা দিয়ে অবশেষে ২০১৫ সালের ৩১ শে আগষ্ট পরলোক গমন করেন এই সাদা মনের মানুষটি ।

মধুপুর উপজেলায় ১৮০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা । বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলা থেকে মধুপুর যদিও একটু ভিন্ন, তবুও এখানে বাস করে প্রায় ৬০% দরিদ্র লোক । কিন্তু তা সত্বেও মধুপুরে কিছু কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এত বেড়ে যায় যে তা দরিদ্র মানুষ তো দূরের কথা, সাধারণ মধ্যবিত্য পরিবারেরও হাতের নাগালের বাইরে চলে যায় । ঠিক তেমনি একটি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য হচ্ছে কাঁচা মরিচ- যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৮০ টাকা । শুনে অবাক হতে হলো যে কোন ধরনের সংকট ছাড়াই মধুপুরে কাঁচা মরিচের দাম এত বেড়ে গেছে । খোজ নিয়ে জানা গেছে কিছু অসাধূ ব্যবসায়ী কাঁচা মরিচের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন । অনেক দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ব পরিবারের লোকজন কাঁচা মরিচ কিনতে এসে দাম শুনে না কিনেই চলে যাচ্ছেন । তেমনই একজন জানালেন- কি করবো ? এত দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনে খাওয়া সম্ভব না । এখন শুকনা মরিচ দিয়েই খাবার রান্না করে খেতে হবে। কিন্তু কাঁচা মরিচের এত মূল্য বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনের এতে কোন হস্তক্ষেপ নেই । প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে ।